রংপুরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে অন্তবর্তী কালীন সরকারের প্রতি নাগরিক সমাজের ই পি এস এম পি ২০২৫ বাতিলের দাবিতে নাগরিক সমাজের গোলটেবিল বৈঠক ২২/১/২০২৫ রংপুর নগরী একটি কলেজ মিলনায়তনে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিকালীন সরকার ২৫ বৎসর জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ ইপিএস পি 2025 অনুমোদনের পথে পা বাড়াতেই নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি সংগঠনরংপুরে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি ২০২৬=২০৫০ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করেই হয়েছে। পরিবেশ ও সমাজের প্রভাব পর্যাপ্তভাবে বিবেচনা করা হয়নি এবং জনগণের অংশগ্রহণকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়ন কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)- এর উদ্যোগে এবং ডেভেলপমেন্ট অফ পুওর সোসাইটি (ডপস), পরিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম – রংপুর ও উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট ( ক্লিন)- এর সহ – আয়োজনে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ডেভেলপমেন্ট অফ পুওর সোসাইটি (ডপস) এর নির্ভায়ী পরিচালক উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্তী বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের খসরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনাটি (২০২৬ -২০৫০) প্রণয়ন পক্রিয়ায় জনসাধারণ নাগরিক সমাজ ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে । কোন ধরনের জন শুনানি বা উন্মুক্ত পরামর্শ ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। যা পূর্ববর্তী সইরাচারী সরকারের ও অসচ্ছ ও দায়মুক্তি মূলক নীতি প্রণয়নেরই পুনরাবৃত্তি । অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা নিশ্চিত করা। কিন্তুু সেই সীমা অতিক্রম করে একটি দীর্ঘ মেয়াদি উচ্চ ঝুকিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক প্রভাব সম্পূর্ণ জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি উচ্চ আদালতে নির্দেশ থাকা সত্বেও কোন অর্থবহ অংশগ্রহণমূলক পরামর্শ পক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি৷ অতীতে দ্রুত বিদুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধান আইন ব্যবহার করে বিতর্কিত প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিলো । ই পি এস এম পি ২০২৫ সেই একই পথে ভবিষ্যতেও জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর প্রকল্পকে বৈধতা দেয়ার কাঠামো তৈরি করছে। মহা পরিকল্পনায় এনার্জি ট্রানজিশনকে ব্যাপক প্রচার করা হলেও বাস্তবে প্রকৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ সেখানে মাত্র ১৭ %। অথচ কাগজে দেখানো হয়েছে ৪৪% গ্যাস ভিত্তিক বিদুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১৫. ৮ গিগা ওয়াট থেকে বাড়িয়ে ২৫. ২ গিগা ওয়াট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২৫ বছর পরেও এল এন জি কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা ৫০% থাকবে যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি । হাইড্রোজেন আমোনিয়া কো ফায়ারিং ও কার্বন ক্যাপচার ( সি সি এস) এর মত ব্যায়বহুল ও পরিক্ষামূলক প্রযুক্তিকে সমাধান হিসেবে দেখানো হয়েছে। যা বাস্তব সম্মত নয় । এবং ভবিষ্যতে দেশকে নতুন ঋণ ভর্তুকি ও পরিবেশকে সংকটে ফেলবে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের কার্বন নির্গমন হবে। ১৮৬. ৩ MtCO? e, যা দেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান ( এন ডি সি) এর লক্ষ্য এবং উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস ঘোষিত শূন্যে দারিদ্র্য শূন্যে বেকারত্ব শূন্যে কার্বন দর্শনের সঙ্গে এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বিরোধী । এবং শ্রমিক পূর্নবাসন নারী ও লিঙ্গ ভিত্তিক ন্যায্যতা কৃষি স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং পোশাক খাতের সবুজায়নের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত রাখা হয়েছে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম, রনজিৎ দাস, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সহকারী শিক্ষিকা আলিফা তাজমিন, বক্তাগণ সরকারের প্রতি জোরালো দাবী জানান অবিলম্বে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা ২০২৫ ( ই পি এস এম পি) ২০২৫ স্থগিত এবং সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে। বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ ও অন্তভূর্তিমূলক জাতীয় পরামর্শ পক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমিয়ে বাস্তব সম্মত ১০০% নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোড মেপ প্রণয়ন করতে হবে। ন্যায্য, সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রুপান্তরের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
