জহির রায়হান কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
কাউনিয়ায় দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টির সাথে বাতাস বয়ে যাওয়ায় উঠতি আমন ধানের খেত মাটিতে নুয়ে পড়েছে । এছাড়া ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন আগাম শাকসবজি। ফলে কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হতে বসেছে।
সরেজমিনে উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে শুক্রবার সকাল থেকে আকাশে মেঘ ডাকতে থাকে, এর পর শুরু হয় মুশলধারে বৃষ্টি ও বাতাস শনিবার দিন চলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি । এ বৃষ্টি ও বাতাসে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের রবিশস্যের বেশিরভাগ খেতে পানি জমে ও মাটিতে নেতিয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। বাতাসে নষ্ট হয়েছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। মাঠের পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। ফলে অনেকটাই ক্ষতিসাধন হয়েছে বলেও জানান কৃষকরা।
কৃষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য মতে এ উপজেলায় ৫ শ’ বিঘা জমির ধান খেত নষ্ট হওয়ার পথে।
বিশেষ করে উপজেলার শহীদবাগ ও কুর্শা ইউনিয়নসহ ৬ ইউনিয়নের কয়েক শতাধিক একর ধান খেতের অধিকাংশ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। চাঁনঘাট গ্রামের কৃষক শফিকুল ও আঃ হক জানান, আমাদের এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমির ধান বৃষ্টি ও বাতাসে মাটিতে নেতিয়ে পড়েছে ও গাছ থেকে ধান ঝড়ে পড়েছে। নিজপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হেনা মোস্তফা জানান তার ৪ একর জমি পাকা ধান বৃষ্টি ও বাতাসে হেলে পড়েছে। যার ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষকেরা
একই কথা জানালেন নাজিরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল কুদ্দুছ, মাহফুজার রহমান ও হাসেন আলী। আশপাশের গ্রাম গুলোতেও ধান খেতের একই চিত্র দেখা গেছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমিতে।
বালাপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, বাতাস ও বৃষ্টিতে পড়ে যাওয়া ৪/৫ টি ধান গাছ একত্র করে বেঁধে দাঁড় করে রাখতে হবে এবং জমিতে পানি জমে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হলে আইল কে বা অন্য কোন উপায়ে জমি থেকে পানি বের করে দিতে হবে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার তানিয়া আকতার জানান, উপজেলায় বাতাস ও বৃষ্টিতে ধানগাছ হেলে পড়েছে। এ বিষয়ে রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে। রিপোর্ট পেলেই ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে। তবে এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে ।
