রংপুরের পীরগঞ্জ থানাধীন, ডাকঘর-হলদিবাড়ী চতরা গাংজোয়ার গ্রামের খলিল মিয়ার কন্যা রিতি আক্তার লাবন্য (২১) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের জালে ফেলে প্রতারণা করে অনেক ছাত্র,যুবককে সর্বশান্ত করে রাস্তায় বসিয়েছে। ছাত্র ও যুবকরা মানসম্মানের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু এই মেয়ের নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে, তার কথামত না চললে সে তার গ্রুপকে লেলিয়ে দিয়ে অর্থ আদায়, মার ডাং ও জীবন নাশের হুমকী দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এই মেয়ের বিচরণ রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের শহরগুলোতে তার প্রতারণা চলমান আছে। যার স্বচিত্র প্রমাণ অনেক আছে।এরই এক পর্যায়ে সেই মেয়ে শিকার হিসেবে বেছে নেয় মো: মাসুদ রানা, তিনি কারমাইকেল কলেজে অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), পিতা-মো: মোকছেদুল হক, মাতা-মোছা: মাহফুজা বেগম, ঠিকানা-গোপীনাথপুর বোডহাট ডাংগাপাড়া, বদরগঞ্জ, রংপুর। তিনি নিজেও একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে টার্গেট করে সেই মেয়ে বিভিন্নভাবে তাকে লোভ দেখিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নিজের আয়ত্বে এনে তাকে শোষণ শুরু করে। মাসুদ রানা, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছাত্র জীবনে মেয়েদের সান্নিধ্যে আসতে না পারার কারণে মেয়েটিকে মাসুদ রানা ভালোবেসেছে। আর এরই প্রেক্ষিতে নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে তার হাতে গচ্ছিত টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া,খাওয়া দাওয়া, চলাফেরা থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু মাসুদ রানার কাছে নিয়ে দিনাতিপাত করছে। এক পর্যায়ে টাকার চাপে মাসুদ রানা তার জমিজমা বন্দক রেখে তাকে টাকা এনে দিয়েছে। এভাবে দীর্ঘ আটমাস অতিবাহিত হওয়ার পর মাসুদ রানা যখন তাকে বিয়ের কথা বলে, তখন সে তাকে অনেক টাকার কথা বলে এবং মাসুদ রানাকে আস্তে আস্তে ইগনোর করা শুরু করে। ফলশ্রুতিতে মাসুদ রানা তার মোবাইল ফোন, ফেসবুকসহ অন্যান্য বিষয়গুলো ঘেটে দেখার পর তার প্রতারণার বিষয় মাসুদ রানার কাছে ধরা পড়ে। মাসুদ রানা ওই মেয়ের বিষয়ে অনেক তথ্য উপাত্ত ও বিভিন্ন ধরনের নগ্ন ছবি বিভিন্ন ছেলের সাথে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে মাসুদ রানা ওই মেয়ের ঠিকানায় যোগাযোগ করলে এলাকার লোকজন সেই মেয়ের বিষয়ে এবং তার চরিত্র নিয়ে এলাকায় একাধিক বিচার শালিস হয়েছে সেটিও মাসুদ রানা জানতে পারে। এ বিষয়ে মাসুদ রানা মেয়ে বাবা-মায়ের সাথে কথা বললে, মেয়ের বাবা-মা মাসুদ রানাকে সমুদয় টাকা আস্তে আস্তে ফেরত দেয়ার প্রস্তাব দেয়।এমতাবস্থায় মেয়ে কৌশলে তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে চতরা গ্যাংজোয়ার নিয়ে যায় এবং দুই ঘন্টা বসে রেখে মাসুদ রানাকে ফোন করে বলে এখানে অনেক লোকজন আছে। তুমি ধাপের হাটে আসো এখানে আমি সব ব্যবস্থা করে রেখেছি। মাসুদ রানা তার কথায় বিশ্বাস রেখে ধাপের হাটে যায়, গিয়ে সে গুন্ডাপান্ডার হাতে মারধর খেয়ে সাথে থাকা নগদ ২২,৩০০/- টাকা ও বিকাশ থেকে ৯০০/- টাকা এবং তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ব্যাপারে মাসুদ রানা পীরগঞ্জ থানায় গেলে এসআই হরিদাস আইনের আশ্রয় নিতে বলে, সে মোতাবেক মাসুদ রানা আইনগত ব্যবস্থা নিলে এসআই হরিদাস মাসুদের ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেন এবং মাসুদ রানাকে বলে, আসলে উক্ত মেয়েটি খারাপ প্রকৃতির, এ বিষয়ে এ রকম অনেক ঘটনা এলাকাবাসীর কাছে জানতে পারি।মাসুদ রানা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য উপাত্ত দিয়ে, প্রত্রিকার মাধ্যমে এই মেয়ে প্রতারণার সকল ঘটনার প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার কামনা করেন। সাথে সাথে তার মতো কেউ যেন এই মেয়ের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেয় সে বিষয়ে সজাক থাকার কথা বলেন।
