হাবিবুর রহমান হাবিব,পীরগাছা(রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায় ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার নতুন ইতিহাসের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর এই প্রথম চেয়্যারম্যান পদে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন নারী প্রার্থী শিউলি বেগম। ইতোমধ্যে তিনি মাদকমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের প্রত্যয়ে মাঠে নেমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।শিউলি বেগম ছাওলা ইউনিয়নের আদম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সমাজসেবক ডা. একরামুল হকের স্ত্রী। পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি পরিবারের সদস্য তিনি। তার বাবা মরহুম গনি কন্টাক্টার এবং শ্বশুর মরহুম খালেদুল হক (পিএলও)। এছাড়া তিনি প্রয়াত আব্দুল মান্নান চেয়ারম্যানের নাতি বউ।শিক্ষাজীবনে শিউলি বেগম রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স (এমএসসি) সম্পন্ন করেছেন। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ছাওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে তার স্বামী একরামুল হক স্থানীয়ভাবে একজন সক্রিয় সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত।জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেননি। ফলে এবারের নির্বাচনে শিউলি বেগমের অংশগ্রহণকে স্থানীয়রা ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।ছাওলা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। এর মধ্যে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ভোটার, যেখানে নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি। এসব এলাকার মানুষের সমর্থন আদায়ে শিউলি বেগম নিয়মিত গ্রামগঞ্জে গণসংযোগ করছেন।শিউলি বেগম বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও পীরগাছায় কোনো নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিল না। ফলে নারীরা সবসময় অবহেলিত থেকেছে। তাদের মনের কথা বলার মতো কোনো প্রতিনিধি ছিল না। আমি মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ এবং স্বনির্ভর একটি ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে কাজ করতে চাই।তিনি আরও বলেন, “আমি মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতে চাই। ইতোমধ্যে গ্রামেগঞ্জে নারী-পুরুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি, সবাই মিলে একটি উন্নত ও স্বচ্ছ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে পারবো।এদিকে, আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজির হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহ মো. নুরে আলম সিদ্দিকী এবং ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মামুনুর রশীদ।
