প্রকাশের সময়: Tuesday, ১৯ মে, ২০২৬ । ৩:৩১ am প্রিন্ট এর তারিখঃ ,

চায়ের জেলার পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষে স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

প্রকাশের সময়: Tuesday, ১৯ মে, ২০২৬ । ৩:৩১ am

স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা আঙ্গুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে বিদেশের কোনো আঙ্গুর বাগান। অথচ মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য এখন দেখা যাচ্ছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে। চা, ভুট্টা ও আলুর জন্য পরিচিত এ জেলা এবার পরিচিতি পাচ্ছে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষের নতুন সম্ভাবনায়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তালমাসহ জেলার কয়েকটি এলাকায় গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন আঙ্গুর বাগান। প্রতিদিন এসব বাগানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইছেন— কীভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি এই ফল।

স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া আঙ্গুর চাষ এখন আশাব্যঞ্জক সাফল্যের মুখ দেখছে। সবুজ লতায় ঝুলে থাকা বেগুনি ও সবুজ রঙের আঙ্গুরের থোকা এলাকায় নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

তালমা এলাকার উদ্যোক্তা ও আঙ্গুর চাষি মো. মিরাজ ইসলাম জানান, শখের বসে প্রথমে কয়েকটি গাছ লাগালেও পরে তিনি বুঝতে পারেন পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এরপরই তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর বাগানে তিনটি জাতের প্রায় ৪০০টি আঙ্গুর গাছ রয়েছে। গাছগুলোর বয়স মাত্র ১১ মাস হলেও ইতোমধ্যে ভালো ফলন এসেছে। বাগানে আসা দর্শনার্থীদের আঙ্গুর খাইয়ে দেখানো হচ্ছে এবং সবাই এর স্বাদ ও গুণগত মানের প্রশংসা করছেন। পাশাপাশি চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করা হচ্ছে।

স্থানীয় আরেক কৃষক আব্দুর রফিক বলেন, আগে ভাবতাম আঙ্গুর শুধু বিদেশেই চাষ হয়। এখন নিজের জমিতে আঙ্গুর ফলাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছি। সরকারি সহায়তা পেলে আরও বড় পরিসরে চাষ করা সম্ভব হবে।

আঙ্গুর বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রহমান বলেন, পঞ্চগড়ে এভাবে আঙ্গুর চাষ হবে কখনো ভাবিনি। বাগানে এসে মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো ফল বাগানে ঘুরছি। এটি এখন পর্যটনের মতো আকর্ষণ তৈরি করেছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিদেশি ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে এখানে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে আঙ্গুর পঞ্চগড়ের অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

সঠিক পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পঞ্চগড়ের আঙ্গুর চাষ শুধু কৃষকদের নতুন স্বপ্নই দেখাবে না, বরং জেলার কৃষি অর্থনীতিতে যোগ করবে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

প্রিন্ট করুন