ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা “ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি”প্রজেক্ট এর আওতায় হাফ ডে শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে রংপুরে শনিবার (২৩ মে) সকাল ১০ টায় রংপুর ওয়েস্টার্ন কুজিনে সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে প্ল্যান বাংলাদেশ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই ওরিয়েন্টশন কর্মশালা আয়োজন করে।কর্মশালায় স্বেচ্ছাসেবী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সহ বেশকিছু সংগঠনের ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ, ফ্যাক্ট-চেকিং কৌশল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ডিজিটাল লিটারেসি, ডিজিটাল রাইটস এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক অনলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ব্যবহারিক দিকনির্দেশনাও তুলে ধরা হয়।কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের পরিসরকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন মানুষের মতামত প্রকাশ, তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমত গঠনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে এই সুযোগের পাশাপাশি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তার, অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং সাইবার নিরাপত্তাজনিত নানা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।বক্তারা আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার হলেও তা দায়িত্বশীলভাবে চর্চা করা প্রয়োজন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, অন্যের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অনলাইন হয়রানি ও প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যক্তি ও সমাজ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা প্রকল্পের ফোকাল পারসন প্রদীপ চন্দ্র রায় । ডিজিটাল নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
