স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ প্রায় আড়াই দিন ধরে শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে গত শুক্রবার ভোর থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত তারা দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখার একটি ফসলি জমির আইলে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, শূন্যরেখায় অবস্থানকারীদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে প্রচণ্ড রোদ, ভ্যাপসা গরম এবং টানা বৃষ্টির মধ্যেও তারা সেখানে অবস্থান করছেন। শুক্রবার রাতের বজ্রবৃষ্টিতেও তাদের আশ্রয়ের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, জমে থাকা পানির মধ্যে সরু আইলে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে সময় পার করছেন তারা। সীমান্তের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং অন্য পাশে রয়েছে বিএসএফ সদস্যরা।
ঘটনার সমাধানের লক্ষ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। শনিবার দুপুরে ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শুক্রবার বড়বাড়ি বিওপি ও ভারতের সাকাতি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যেও বৈঠক হয়। তবে কোনো বৈঠক থেকেই কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসেনি।
এদিকে শূন্যরেখায় অবস্থানরত নারী ও শিশুদের দুর্ভোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্ত এলাকায় প্রতিদিনই উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান দাবি করেছেন।
বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. রহমান বলেন, “প্রচণ্ড রোদ আর বৃষ্টির মধ্যে ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে মানুষগুলো যেভাবে দিন কাটাচ্ছে, তা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। দ্রুত তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”
প্রধানপাড়ার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন বলেন, “খাবার, বিশ্রাম ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ছাড়া মানুষগুলো মানবেতর অবস্থায় রয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত মানবিক সমাধান বের করা।”
সীমান্তে সৃষ্ট এ পরিস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি মানবিক সংকটের বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন সীমান্তবাসী।
