হাবিবুর রহমান হাবিব,পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন দৃষ্টিনন্দন সবুজ পাটখেত। বাতাসে দুলছে সোনালি আঁশের স্বপ্ন।
পরিচর্যার কাজ শেষ করে কৃষকরা এখন পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।উপজেলার ছাওলা,তাম্বুলপুর, কান্দি, কৈকুড়ী, কল্যাণী, পারুল, ইটাকুমারী, অন্নদানগর ও পীরগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এ বছর পাটের গাছ স্বাভাবিকের তুলনায় লম্বা, সবল ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেতেই পাট কাটার উপযোগী হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে পাট কাটা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৭৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের ৪৫৫ হেক্টরের তুলনায় ১২২ হেক্টর বেশি। শতাংশের হিসাবে আবাদ বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ। এ বছর পাট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ হেক্টর, যা ছাড়িয়ে গেছে ৭৭ হেক্টর। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৭৭ বেল।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বীজ বপনের পর থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে।নিয়মিত আগাছা দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার কারণে ফলন নিয়েও আশাবাদী তারা।তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে বাজারমূল্যের ওপর।স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে এক বিঘা জমিতে পাট চাষে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগছে। শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরির কারণেও খরচ বেড়েছে। তারপরও ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যের আশা করছি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান “এ বছর পাটের ক্ষেতের অবস্থা অত্যন্ত ভালো। রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়েছে। কৃষকরা এখন পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবেশবান্ধব আঁশ ফসল হিসেবে পাটের চাহিদা দেশ-বিদেশে বাড়ছে। বাজারে সন্তোষজনক মূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং আগামী মৌসুমে পাট চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাটখেত এখন কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
