মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জিহাদ,নন্দীগ্রাম বগুড়া প্রতিনিধিঃ গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের মধ্যে বগুড়া সদর থানার আতিকুর রহমান সাগর হত্যা মামলার চারজন এবং সারিয়াকান্দি উপজেলার মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার দুই জন আসামি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরব বগুড়া র্যাব-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামীরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া এলাকার মো. জিলহাজ মন্ডল (৪৬), মো. আরিফ প্রাং (৩৫), মো. লিটন মিয়া (৩৫) ও মো. রব্বানী (২৫)। তারা আতিকুর রহমান সাগর হত্যা মামলার যথাক্রমে ১, ১৬, ৮ ও ১৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
অন্যদিকে, সারিয়াকান্দি উপজেলার পাকুড়িয়া চর এলাকার মো. রহিদুল সরকার (৪৭) ও মো. শাহজাহান সরকার (৪০) মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার ১১ ও ১৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে বগুড়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চারটি পৃথক অভিযান চালায় র্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়া ও র্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধার যৌথ আভিযানিক দল। এসব অভিযানে দুই হত্যা মামলার ছয় পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২৩ জুলাই রাত ২টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের চালিতাবাড়ী এলাকায় আতিকুর রহমান সাগরের পথরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, ধারালো ছুরি, লোহার রড ও স্টেইনলেস স্টিলের পাইপ দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। প্রাণ বাঁচাতে সাগর দৌড়ে একটি বাড়ির আঙিনায় আশ্রয় নিলেও হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, সাগর হত্যা মামলার ১ ও ১৬ নম্বর আসামি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ভগরিয়া এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সেখানে অভিযান চালিয়ে জিলহাজ মন্ডল ও আরিফ প্রাংকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে রাত ২টা ২০ মিনিটে গোবিন্দগঞ্জের খানাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে একই মামলার আসামি লিটন মিয়া ও রব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, একই রাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার শিমলা বাজার ও কুন্দারহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রহিদুল সরকার ও শাহজাহান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর ও সারিয়াকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, হত্যা, সংঘবদ্ধ অপরাধসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
