রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরের আলোচিত ও বিতর্কিত শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি একটি মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে কোতোয়ালি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহুরুল হক।
গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার দুপুরে শাহিনুর বেগমকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ হাজির করা হয়। এরপর বিকেল ৫টার দিকে বিচারক মো.আশিক-উজ-জামান আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
শাহিনুর বেগমের গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীর অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্প্রতি রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় শাহিনুর বেগমসহ তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় শাহিনুর বেগমের সৎ ভাই-বোন, বোন জামাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে শাহিনুর বেগমের করা মামলায় মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালালে তারা আহত হন। পরে গুরুতর অবস্থায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এরপর চিকিৎসা শেষে অভিযুক্ত শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ০২/২৬।
এবিষয়ে বাদিনীর আইনজীবী এডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, বাদিনী সাবনাজ বেগম কোতোয়ালি সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে আসামি শাহিনুর বেগমকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে থানা পুলিশ। বিজ্ঞ আদালত আগামী রবিবার জামিনের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।
