জীবনের কিছু মুহূর্ত আসে, যখন চারপাশের সব দরজা যেন একে একে বন্ধ হয়ে যায়। আপন মানুষও তখন অসহায়, কোনো পথই খুঁজে পাওয়া যায় না। বুকভরা দুশ্চিন্তা আর অজানা আশঙ্কায় মন ভারী হয়ে ওঠে। মনে হয়, এই কঠিন সময় বুঝি আর শেষ হবে না। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে থাকেন মহান আল্লাহ।
দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কখনো তা আসে পরীক্ষার মতো, কখনো সতর্কবার্তা হয়ে। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে একজন মুমিনের শক্তি হলো-সে জানে, পৃথিবীর সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তাই বিপদে ভেঙে পড়ার বদলে ধৈর্য ধরতে হয়, আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হয় এবং কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হয়।
সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
সুনানে তিরমিজিতে সকাল ও সন্ধ্যায় এ দোয়া পাঠের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
বিপদে ভেঙে নয়, আল্লাহর দিকে ফিরুন
বিপদ মানুষকে ভেঙে দিতে পারে, আবার সেই বিপদই তাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে। সিদ্ধান্তটা অনেকাংশেই নির্ভর করে আমরা বিপদের সময় কোন পথ বেছে নিই তার ওপর।
কষ্ট এলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। চোখে পানি এলে কাঁদতে হবে-তবে মানুষের সামনে অসহায় হয়ে নয়, আল্লাহর সামনে সিজদায় গিয়ে। বুক ভারী হলে অভিযোগে নয়, দোয়ায় তা হালকা করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, দোয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নিজের পছন্দের ফল পাওয়া নয়। কখনো আল্লাহ চাওয়া জিনিসটি দেন, কখনো কোনো বিপদ দূরে সরিয়ে দেন, আবার কখনো এমন কল্যাণ রাখেন যার খবর বান্দা তখনও জানে না।
তাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন রাতেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।
হয়তো যে দরজাটি মানুষের কাছে বন্ধ, সেটিই আল্লাহর কাছে আপনার জন্য খুলে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।
বিপদ যত বড়ই হোক, মুমিনের ভরসা তার চেয়েও বড়-আল্লাহ আছেন। আর যে হৃদয় সত্যিকার অর্থে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখে, কঠিন সময়ও একদিন তার জন্য রহমতের বার্তা হয়ে আসে।
