প্রকাশের সময়: Wednesday, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:৪০ pm প্রিন্ট এর তারিখঃ ,

সেবার বদলে সংকট, ধুঁকছে গাইবান্ধার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

প্রকাশের সময়: Wednesday, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ১২:৪০ pm

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নানা সংকটে গাইবান্ধার একমাত্র যক্ষারোগ চিকিৎসাগার (বক্ষব্যাধি ক্লিনিক)। দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট, চিকিৎসক না থাকা, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ, এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধসহ নানা সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। দীর্ঘদিন ধরে ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে নেই মেডিকেল অফিসার। চলতি বছরের ১৯ জুলাই থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদটিও শূন্য রয়েছে। ফলে বর্তমানে ক্লিনিকটিতে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই।চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ সংগ্রহ করা হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন রোগী সেবা নিতে এলেও চিকিৎসক না থাকায় অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।কর্মচারীরা জানান, একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন মেডিকেল অফিসার ও দুজন সহকারী নার্স থাকার কথা থাকলেও এসব পদে কেউ নেই। দীর্ঘদিন ধরে অফিস সহকারী, গৃহপরিদর্শিকা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদও শূন্য রয়েছে। তীব্র জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম।এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফিল্মের অভাবে এক্স-রে মেশিনটি বন্ধ রয়েছে। কফ পরীক্ষা ছাড়া প্যাথলজিতে অন্য কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নেই। জরাজীর্ণ ভবনেও চলছে ক্লিনিকের কার্যক্রম।জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা বেগম বলেন, পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনে সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালানো হচ্ছে। রোগীদের স্বার্থে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, একজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কিছু কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

প্রিন্ট করুন