মোঃ আফ্ফান হোসাইন আজমীর, রংপুর প্রতিনিধিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের জোদদুলাল গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একটি নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। আহতদের দুইজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জোদদুলাল গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম তাঁর ক্রয়কৃত তফশিলভুক্ত সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। ওই জমি নিয়ে রমজান আলী, মহিদুল প্রধান, মজাহিদ প্রধান, মিজানুর রহমান, ওয়াকিল প্রধান, মান্নার প্রধানসহ ১৫-১৬ জন অভিযুক্তের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।২২ নভেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে শহিদুল ইসলাম জমিতে কাজ করার সময় অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার সাবল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায়। শহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মহিদুল প্রধান বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে এবং রমজান আলী লোহার সাবল দিয়ে বাম পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।এ সময় তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত শহিদুল ইসলামকে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এর পরদিন ২৩ নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে শহিদুল ইসলামের পরিবার বাড়িতে না থাকার সুযোগে একই অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে আবার হামলা চালায়। তারা তাঁর টিনের ঘর ও নির্মাণাধীন ইটের ঘর ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসলে শহিদুল ইসলামের চাচা মোখলেছার প্রধান, ভাই ফারুক, নজম, সুজন এবং ভাবি রুনা বেগমকে মারধর করা হয়। মোখলেছার প্রধানের হাত ভেঙে যায় এবং মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়।এসময় রুনা বেগমকে বেধড়ক মারার পাশাপাশি ৩নং অভিযুক্ত তাঁর পোশাক টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে গুরুতর আহত মোখলেছার প্রধানকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।ঘটনার পর পরিবার ও স্বজনদের পরামর্শে আহত শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ শেফাউল প্রধানের মাধ্যমে পীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জমিটি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানাধীন জোদদুলাল মৌজার ১৯ শতকের মধ্যে ১০ শতক বলে জানা যায়।পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ ও গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
