মোঃ সুলতান মারজান,স্টাফ রিপোর্টার
রংপুরের মিঠাপুকুরে এক নারী শ্রমিককে ওরস মাহফিলে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৬ থেকে ৭ জন সরাসরি জড়িত থাকলেও থানায় মাত্র দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি বাকি অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখতে কোনো অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। নারীকে জিম্মি করে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় দালালচক্র সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ। ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রংপুর তাজহাট থানাধীন এলাকার এক নারী শ্রমিক (৩৩) মিঠাপুকুর উপজেলার বিরাহিমপুর গ্রামে যান। স্থানীয় একটি ওরস মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার নাম করে মোঃ হানিফ মিয়া (৫৪) ও মোঃ কাশেম আলী ওরফে কাসু (৫৯) তাকে ডেকে নেন। পরে হানিফ মিয়ার বাড়ির একটি ঘরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে দলবদ্ধ গণধর্ষণ করা হয়ভুক্তভোগীর আর্তনাদে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে হাতেনাতে মোঃ হানিফ মিয়াকে আটক করলেও অপর আসামি কাশেম আলীসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারী ও আটক হানিফ মিয়াকে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে থানায় দুজনকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান,এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সরাসরি ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর কোনো অভিভাবক বা আপনজন উপস্থিত না থাকায় এবং তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। মামলা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই চক্রটি বাকী অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিনিময়ে মামলার এজাহার থেকে ৩-৪ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তাদের দাবি, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ভুক্তভোগীকে বোঝানো হয় যে, এজাহারে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখলে মামলা দুর্বল হয়ে যাবে এবং পুলিশ বিষয়টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই ভয় দেখিয়ে কৌশলে একটি দুর্বল এজাহার প্রস্তুত করানো হয়।কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমাকে ৬ থেকে ৭ জন মিলে ধর্ষণ করেছে। কিন্তু আমি সামনাসামনি দুজনকে চিনি, তাই তাদের নামেই মামলা করেছি। বাকিদের আমি চিনতাম না। ঘটনার সময় আমাকে যারা সহযোগিতা করেছে, তারা যেভাবে পুলিশকে বলতে এবং লিখতে বলেছে আমি সেভাবেই বলেছি ও লিখে স্বাক্ষর দিয়েছি। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখলে পুলিশ তাদের খুঁজে বের করতে পারত, তা আমার জানা ছিল না।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠাপুকুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান বলেন, ভিকটিমের লিখিত অভিযোগ এবং জবানবন্দি অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকেই আমরা গ্রেফতার করেছি। তারপরেও অন্যকেউ জড়িত থাকলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এই পৈশাচিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
