কাউনিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক ও দেশভাগের সময়ের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান “টেপামধুপুর ইউনিয়ন বহুমূখী সমবায় সমিতি লিঃ” (নিবন্ধন নং- ৭১)-এর বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির নানাবিধ দালিলিক জালিয়াতি, স্বৈরাচারী কায়দায় পকেট কমিটি গঠন এবং ভুয়া সদস্যভুক্তি ও জবরদখলের প্রতিবাদে আজ এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী আমল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত একক ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে পকেট কমিটি তৈরি করে এই ঐতিহ্যবাহী সমিতিটি অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমান কমিটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০০৮ সালের ভোটার তালিকার ৪ নম্বর সদস্য মোঃ মমিনুল ইসলাম ওরফে সাজু মিয়া, ২০২৪ সাল ও পূর্ববর্তী সভার বৈধ সদস্য মোহাম্মদ আলী মিঠু, কনক চন্দ্র বর্মণ, জিয়ারুল হকসহ সিংহভাগ প্রবীণ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মৃত সমবায়ীদের নমিনীদের নাম সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। উল্টো পকেট ভোটার তালিকা ভারী করার জন্য প্রলোভন দেখিয়ে বহিরাগত ভুয়া সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, বর্তমান কমিটির নানাবিধ অনিয়মের কারণে গত ১ অক্টোবরের অবৈধ সাধারণ সভাটি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নাজমীন আখতারের আদেশে বন্ধ করা হয় এবং গত ০৭/১০/২০২৬ খ্রি. তারিখে তাদের বিরুদ্ধে দালিলিক জালিয়াতির তদন্ত নোটিশ জারি করা হয়। কিন্তু জালিয়াতি চক্রটি সরকারি নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো ব্যাক-ডেটে ভুয়া খাতা, নথি তৈরি করতে বা সরাতে পারে।
মানববন্ধনে বক্তারা অনতিবিলম্বে বর্তমান অবৈধ পকেট কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী (এডহক) ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, জালিয়াতিচক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘদিন ধরে লিজ থাকা দোকান ঘরসমূহের আর্থিক হিসাব স্বচ্ছ করার জোর দাবি জানান। কাউনিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাজনীন আখতার বলেন, “আমি এই নতুন কর্মস্থলে সবেমাত্র যোগদান করেছি। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জাতীয় সমবায় দিবস উদ্যাপন শেষে তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
