স্নিগ্ধা খন্দকার,পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
কৃষিকে আধুনিকায়ন, যুগোপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানের উত্তম কৃষি চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে পঞ্চগড়ে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে “পার্টনার কংগ্রেস” অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড়ের উপপরিচালক আব্দুল মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুন্নবী। এছাড়াও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রোকেয়া খাতুন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিকে এগিয়ে নিতে প্রান্তিক কৃষকদের নতুন নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং উত্তম কৃষি চর্চার সঙ্গে পরিচিত করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের বাণিজ্যিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কৃষি বিভাগের আয়োজিত বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন অতিথিরা। এ সময় তারা কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্যের গুণগত মান যাচাই-বাছাই করেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
পরে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রোকেয়া খাতুন কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি কৃষিভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠনের উপকারিতা এবং সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সহজ ঋণপ্রাপ্তি ও পণ্যের কার্যকর বাজারজাতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আয়োজকরা জানান, প্রান্তিক কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং নিরাপদ ও বাণিজ্যিক কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মানোন্নয়ন ও বৈদেশিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
Leave a Reply