1. admin@alokito-bd.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পঞ্চগড়ে পুলিশের কাবাডি আয়োজন বিজয়নগরে ২০ বোতল স্কফসহ গ্রেপ্তার ১ সেবার বদলে সংকট, ধুঁকছে গাইবান্ধার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতাল নজরুল বর্ষে আসছে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক তুলতুলের ‘ছোটদের নজরুল’ সম্পর্ক সত্যিই মানানসই আছে কি না, বুঝবেন যে লক্ষণ গুলোতে আসছে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের বগুড়ায় প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গার মেধাবী তরুণ তন্ময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন কাড়ল ডেঙ্গু পঞ্চগড়ে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আটক কসবায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ ৬ ডাকাত গ্রেফতার বিষণ্নতা রোধে ইসলাম যা বলে

বোদায় ‘প্রক্সি শিক্ষক’ দিয়ে চলছে পাঠদান, বেহাল বিদ্যালয়ের পরিবেশ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৩ বার পাঠ করা হয়েছে

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ১০১ নম্বর বনগ্রাম খালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত এক সহকারী শিক্ষকের পরিবর্তে কয়েক মাস ধরে এক নারীকে দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বেহাল অবস্থা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৬৫ জন ছাত্র ও ৬১ জন ছাত্রী। বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকের পরিবর্তে প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে ইতি আক্তার নামে এক নারী বিভিন্ন শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করছেন।

এ বিষয়ে ইতি আক্তার বলেন, “আমি গত দুই থেকে তিন মাস ধরে এই বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্লাস নিচ্ছি।”
অন্যদিকে সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক দাবি করেন, “আমি অসুস্থ থাকায় ইতি আক্তারকে মাসিক সাত হাজার টাকা বেতনে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে রেখেছি।”

তবে এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মোসাদ্দেকুর রহমানের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “প্রক্সি শিক্ষক রাখার বিষয়ে আবু বক্কর সিদ্দিক কিছুই জানেন না। বিদ্যালয়ের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের অর্থায়নে ইতি আক্তারকে রেখেছে।”

একই বিষয়ে দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে—প্রক্সি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কোন বিধিমালার আওতায় তাকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সহকারী শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিক মাঝে মধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও অধিকাংশ সময় কোনো ক্লাস না নিয়েই চলে যান। তার নির্ধারিত ক্লাসগুলো নিয়মিত ইতি আক্তার পরিচালনা করেন।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, “আবু বক্কর স্যার সবসময় ক্লাস নেন না। ইতি ম্যাডামই বেশিরভাগ ক্লাস করান।”
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় কাদার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে টিফিন ও অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে পাঠদান করানো সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী হতে পারে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজমল আজাদ বলেন, “শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক বক্তব্যের অসঙ্গতি এবং বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
কারিগরি সহযোগিতায়: জাগো হোষ্টার বিডি