ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারত সফরে যাবেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এমনটাই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারেক রহমানকে সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ আগস্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ভারতীয় কূটনীতিককে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকটি প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল।
বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও গঠনমূলক পথে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর ত্রিবেদী সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সমস্যা নেই, যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এর আগে জুলাইয়ের শেষেও তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানিয়েছিলেন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ সরকার পর্যালোচনা করছে। তখনও প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গুম ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এরপর শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একাধিকবার অনুরোধ করে ঢাকা। অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দিল্লিও। তবে দিল্লির বক্তব্য হলো, অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও আইনগত বিষয় বিবেচনা করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। জুলাইয়েও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
Leave a Reply