বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা উল্টালে একটি পরিবারের নাম অবধারিতভাবেই বারবার সামনে আসে, সেটি হলো জিয়া পরিবার। দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই; প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে এই পরিবারটি এদেশের মানুষের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখনই কোনো সংকটে পড়েছে জিয়া পরিবারের নেতৃত্বই দলকে এবং দেশের জনগণকে পথ দেখিয়েছে। নানা চড়াই-উতরাই, বারবার আঘাত এবং নির্মম নির্যাতনের পরও দেশের মানুষের মন থেকে এই পরিবারের নাম মুছে ফেলা যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিয়া পরিবারের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
বিএনপির দীর্ঘ পথচলায় নেতৃত্বের তিনটি সুস্পষ্ট স্তর বা প্রজন্ম দেখা যায়, যা পুরোটাই জিয়া পরিবারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। প্রথম স্তরে রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালে তার হাত ধরেই বিএনপির প্রতিষ্ঠা। একদলীয় বাকশাল শাসনের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়েছিল তারই নেতৃত্বে। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছেন দলের সাবেক চেয়ারপারসন, ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক শাহাদাতের পর যখন বিএনপির অস্তিত্ব চরম সংকটে তখন এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি দলের হাল ধরেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জয়লাভ করে এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
Leave a Reply