আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর-৩ (সদর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় পার্টির ও আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনে বিএনপির জামাত, বড় বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে। জোট এবং নতুন উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ত্রি-মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। ঠিক এমন সময় গণঅধিকার পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে আশরাফুল আলম আশরাফকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রংপুর-৩ দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে কৌশলগত আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে শহুরে ভোটার, তরুণ ভোট, পেশাজীবী শ্রেণি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই চারটি ভোটব্যাংক ফলাফলের উপর বড় প্রভাব ফেলে। এ আসন উত্তরের রাজনৈতিক হৃদয়ভূমি। জাতীয় রাজনীতিতে যার গুরুত্ব সবসময়ই ছিল কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘদিনের নানা প্রতিশ্রুতি, অসমাপ্ত প্রকল্প এবং স্থবির নগর উন্নয়নের অভিযোগের ভিড়ে এবার বদলের সুর বাঁধছে নতুন একটি নাম আশরাফুল আলম আশরাফ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ আসনটিতে এবার ভোট হবে ইস্যুভিত্তিক উন্নয়ন, নগরব্যবস্থাপনা, তরুণ নেতৃত্ব এবং স্বচ্ছ রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে। গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আশরাফুল আলম আশরাফ দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলে সাংগঠনিকভাবে কাজ করে আসছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আগামীকাল মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই শহরজুড়ে আলোচনায় এসেছে এই তরুণ প্রার্থী কি রংপুর-৩এর ভোটের হিসাব পাল্টে দিতে পারবেন? রংপুর শহরের বুকে শতবর্ষী শ্যামা সুন্দরী খাল শুধুই পানি নিষ্কাশনের পথ নয়ড়এটি পুরো নগরের পরিবেশব্যবস্থার প্রধান অংশ। কিন্তু দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ এবং বছরের পর বছর অবহেলায় খালটি আজ প্রায় মৃতপ্রায়। এ প্রেক্ষাপটে আশরাফুল আলম আশরাফ ঘোষণা দিয়েছেন, “আমি নির্বাচিত হলে শ্যামা সুন্দরী খাল হবে প্রথম প্রজেক্ট। দখলমুক্তকরণ, আধুনিক খনন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন, ড্রেনেজ উন্নয়নড়এসব একত্রে বাস্তবায়ন করা হবে। রংপুর শহরের প্রাণ ফিরিয়ে আনা ছাড়া উন্নয়ন অসম্ভব।” পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন খাল পুনরুদ্ধার হলে শহরের জলাবদ্ধতা ৬০৭০% কমবে। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে। খালের দু’ধারে হাঁটার পথ ও নগর সবুজায়নের সুযোগ তৈরি হবে। রংপুর শহরের অন্যতম বড় সংকটড়অপরিকল্পিত নগরায়ন। যেখানে রাস্তাঘাট, ফুটপাত, ড্রেনেজ, আলো, পার্ক সবই রয়েছে বিশৃঙ্খলার ভিড়ে। আশরাফুল আলম আশরাফ স্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েছেন, আধুনিক ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে স্ট্রিটলাইট পুনঃপ্রতিষ্ঠা। ফুটপাত সংস্কার ও পথচারীবান্ধব নগর। প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি পার্ক। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা। তার ভাষায় “রংপুরের নগরায়ন এখন ‘মেকশিফট প্ল্যানিং’-এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমি চাই রংপুর হবে পরিকল্পিত, স্বচ্ছ, আলোকিত, সুশৃঙ্খল শহর।” রংপুর সদর এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থা বহুদিনের অভিযোগ। বিশেষ করে ধাপ এলাকা, মেডিকেল মোড়, সেনপাড়া, কামালকাছনা, শালবন, সাথমাথা সহ এসব অঞ্চলের সড়ক দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগের প্রতীক। আশরাফুল আলম আশরাফ বলেছেন, “রাস্তা শুধু বানানো হলেই উন্নয়ন হয় নাড়তার রক্ষণাবেক্ষণ ও মান পরীক্ষা জরুরি। প্রত্যেকটি রাস্তায় মানসম্পন্ন কাজ নিশ্চিত করা হবে। কোনো ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রংপুর শহরে হিজড়া সম্প্রদায়ের বাস করলেও তাদের জীবিকার সুযোগ প্রায় নেই। তাদের নিয়ে সাধারণত রাজনৈতিক নেতারা শুধু প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তবে পদক্ষেপ দেখা যায় না। কিন্তু আশরাফুল আলম আশরাফ তাদের উন্নয়নে স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রকল্প, সরকারি-বেসরকারি চাকরির কোটা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি। তিনি বলেন “হিজড়া সম্প্রদায়কে মর্যাদাসহ বাঁচার সুযোগ দিতে হবে। তাদের কর্মসংস্থান হলে সমাজই উপকৃত হবে। আমি এই সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে মূলধারার রাজনীতির অংশ করতে চাই।” একজন সিনিয়র রাজনৈতিক গবেষক বলেন, “রংপুর-৩ আসনে এবার ভোটের হিসাব অনেকটাই পরিবর্তিত হতে পারে। বাস্তব সমস্যার সমাধানকে সামনে এনে যে ভিশন তিনি দিয়েছেন, তা প্রচারণার মাঠে শক্ত প্রভাব ফেলবে।” মনোনয়ন পাওয়ার পর আশরাফুল আলম আশরাফের ভাষায়, “আমি রাজনীতি করি মানুষের জীবনমান বদলানোর জন্য। রংপুর-৩ আসনকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক মডেল নির্বাচনী এলাকায় পরিণত করাই আমার লক্ষ্য।
Leave a Reply