তানভীর সোহেল,আঞ্চলিক প্রতিনিধি
রংপুর বিভাগীয় মিনি ইজতেমায় জায়গা ভাড়া দেওয়ার নামে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।তথ্য মতে,আজ থেকে শুরু হয়েছে রংপুর বিভাগীয় মিনি ইজতেমা।নগরীর ৪ নং ওয়ার্ড কুকরুল এলাকায় তিনদিন ব্যপী মিনি ইজতেমা টি অনুষ্ঠিত হবে।ইজতেমা কে ঘিরে গড়ে উঠেছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে বড় বড় দোকানপাট,গ্যারেজ ও বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন স্টল।স্থান ও জায়গা বিশেষে স্টল প্রতি ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫-৭ হাজার টাকা ।আর এসব ক্ষণস্থায়ী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাড়া আদায়ের নামে রমরমা চাঁদা বাণিজ্য করছেন জমির মালিক সহ ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ।স্থানীয় ও সরজমিন ঘুরে জানা যায়,বৃহস্পতিবার(১০ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় সরজমিনে দেখা যায়,আজ থেকে শুরু হয়েছে রংপুর বিভাগীয় মিনি ইজতেমা। বিশ্ব উম্মাহের শান্তি,সুখ,সমৃদ্ধি কামনায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মুসলিম অনুসারীরা প্রতি বছরের ন্যয় ভ্রাতৃত্ব আর ইসলামের অটুট বন্ধন ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে ৩ দিনের মিনি ইজতেমায় একত্রিত হন।আর সেই মিনি ইজতেমা কে ঘিরে প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি দলীয় ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে দোকান বরাদ্দ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজি করছেন।আর এসবে যেন চোখ নেই কারোরই।চোখ থাকলেও দেখেই দেখছেন না সাধারণ মানুষ।ইজতেমায় মিঠাপুকুর থেকে আসা এক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন,রংপুর বিভাগ জুড়ে যে কোন ওয়াজ মাহফিল ও মেলায় স্টল বসাই।সেই অববাহিকা অনুসরণ করে রংপুর বিভাগীয় ইজতেমার একটি স্টল ৩ দিনের ভাড়া নেই ৮ হাজার টাকা দিয়ে।প্রথমে ৬ হাজারের টাকা ভাড়া চাইলেও পরে দোকান উঠিয়ে দেয়ার নামে ৮ হাজার দাবি করেন।আমরা যেহেতু দোকান সাজিয়েছি সেহেতু উঠায় বা সরায় নেয়ার ব্যবস্থা নেই তাই বাদ্য হয়ে জমির মালিককে ৮ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই।পঞ্চগড় থেকে আসা আরেক ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম বলেন,আমি যাতায়াতের সুবিধার্থে মোটরসাইকেল টি ইজতেমা সংলগ্ন গ্যারেজে রাখি এবং গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ ৩ দিন রাখা বাবদ ৩০০ টাকা দাবি করেন।আমি প্রতিবাদ করলে বাকবিতন্ডাতার এক পর্যায়ে আমার প্রতি মারমুখী হয়ে উঠেন।তিনি ইজতেমা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,দ্রুত এসব অবৈধ দখলদার চাঁদাবাজি বন্ধ করে চাঁদাবাজ দের আইনের আওতায় আনা হোক।সচেতন মহলের দাবি,রংপুর বিভাগীয় মিনি ইজতেমার যারা ধর্মের নামে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্টল বরাদ্দের নামে চাঁদাবাজি করছেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।এ বিষয়ে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন,আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম যেহেতু এটি ধর্মীয় বিষয় তাই গুরুত্ব সহকারে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply