এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুর-এর উদ্যোগে প্রযুক্তি গ্রাম কাউগাঁয়ে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করে যান্ত্রিক চারা রোপণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এই কার্যক্রমের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রযুক্তির মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান এবং প্রযুক্তি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত এ প্রায়োগিক পরীক্ষণ কার্যক্রমে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের কার্যক্ষমতা, সময় সাশ্রয় ও শ্রম দক্ষতা সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।
কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও কৃষাণীরা মত প্রকাশ করেন যে, বর্তমান মওসুমে শ্রমিক সংকট ধান চাষে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো আধুনিক যান্ত্রিক প্রযুক্তির ব্যবহার শ্রম নির্ভরতা হ্রাসের পাশাপাশি স্বল্প সময়ে অধিক জমিতে চারা রোপণের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সহায়তা করে।
উক্ত যান্ত্রিক চারা রোপণ কার্যক্রমে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। তারা মাঠপর্যায়ে সরাসরি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের ব্যবহারিক প্রয়োগ পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। ফলে শ্রম ও সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধান উৎপাদনকে অধিক লাভজনক ও টেকসই করার বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে এলএসটিডি প্রকল্পের সম্মানিত প্রকল্প পরিচালক ড. মো: আনোয়ার হোসেন বলেন,
“প্রযুক্তি গ্রাম মাঠপর্যায়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়নের একটি কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি প্রযুক্তির ব্যবহার ও সুফল অনুধাবন করতে পারছেন, যা টেকসই ধান উৎপাদন বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।”
এছাড়া ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, দিনাজপুর-এর কার্যালয় প্রধান সেলিমা জাহান বলেন,
“রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহারের মাধ্যমে চারা রোপণে শ্রম ও সময় উভয়ই সাশ্রয় হচ্ছে। বর্তমান শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় এ ধরনের যান্ত্রিক প্রযুক্তি ধান চাষকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তুলছে।”
এ ধরনের কৃষকের মাঠভিত্তিক পরীক্ষণ ও প্রদর্শনী কার্যক্রম এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষক পর্যায়ে আধুনিক ও টেকসই ধান উৎপাদন প্রযুক্তি বিস্তারের একটি কার্যকর ও অনুকরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply