বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদির দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায়, ভিকটিম একজন বুদ্ধি-প্রতিবন্ধী বিবাহিতা নারী। অভিযুক্ত আসামি মোঃ শাহাদুল ইসলাম (৪০) সম্পর্কে ভিকটিমের স্বামীর প্রতিবেশী আত্মীয়। অভিযুক্ত আসামি প্রায় সময়ই ভিকটিমের সাথে কথা বলাসহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্যদ্রব্য দিয়ে সখ্যতা গড়ে তুলে। এরই সুবাদে গত ২৮/০১/২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের স্বামী কাজের জন্য বাইরে গেলে ভিকটিমকে একা পেয়ে বেলা অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় আসামি মোঃ শাহাদুল ইসলাম ভিকটিমের বসত ঘরের ভেতর ঢুকে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণকালীন সময়ে ভিকটিমের স্বামী বাড়ী এসে ঘরের দরজা চাপানো দেখে দরজা ধাক্কা দিলে আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মা মোছাঃ ফরিদা বেগম বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় গত ৩০/০১/২০২৬ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধন ২০২৫) এর ৯(১) ধারায় অভিযুক্ত আসামির নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-১৬।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই প্রেক্ষিতে ১৭/০২/২০২৬ খ্রিঃ ভোর ০৪.৩০ ঘটিকার সময় র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানাধীন বলগাড়ী পোপালপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত প্রধান আসামি মোঃ শাহাদুল ইসলাম (৪০), পিতা- মোঃ আহাদ আলী, সাং- বালুবাড়ী গোপালপুর, থানা- ঘোড়াঘাট, জেলা- দিনাজপুর‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি ধর্ষণ, অপহরণ, হত্যাসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply