বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
মামলার বাদী মোসাঃ হাসি বেগমের দায়েরকৃত এজাহার থেকে জানা যায় যে, গত ২৩/০৫/২০২৫ তারিখে ধৃত আসামি আলামিনের সাথে ভিকটিম সাদিয়া আক্তারের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি আলামিন অন্যান্য আসামিদের প্ররোচনায় ভিকটিমের নিকট দুইলাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু, ভিকটিমের মাতা একজন গরীর বিধবা হওয়ায় আসামিদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে পারেনাই। টাকা না দেওয়ায় ধৃত আসামি আলামিন ভিকটিম সাদিয়াকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ মীমাংসা হলেও আসামিরা যৌতুকের ব্যাপারে অনড় ছিলেন। ভিকটিম সাদিয়া ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকায় আসামিরা যৌতুকের দাবিতে তার ওপর নির্যাতনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৭/০২/২০২৬ তারিখে আসামিরা পুনরায় ভিকটিম সাদিয়ার কাছে যৌতুকের টাকা দাবি করলে তাদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। তখন, অন্যান্য আসামিদের প্ররোচনায় ধৃত আসামি আলামিন উত্তেজিত হয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে ভিকটিম সাদিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধোর করে। ভিকটিম সাদিয়া চিৎকার শুরু করলে অন্যান্য আসামিরা সাদিয়াকে মারধোর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পরে, ধৃত আসামি বাদীকে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়ে অন্যান্য আসামিদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। বাদী ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের বাড়িঘর তালাবদ্ধ দেখতে পান। বাদী তার মানিত সাক্ষী এবং প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে ভিকটিম সাদিয়ার লাশ ঘরের তীরের সাথে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে, ০২/০৩/২০২৬ তারিখে ভিকটিম সাদিয়ার মাতা বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক)/৩০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০৫।
ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কোম্পানী, র্যাব-১৩, রংপুর এর একটি আভিযানিক ২০/০৫/২০২৬ তারিখ রাত ১১.১৫ ঘটিকার সময় নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বড়ডাঙ্গা বাজারের অহিদের হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে নীলফামারী সদর থানার নিজ স্ত্রীকে হত্যা মামলার ১নং এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মোঃ আলামিন (২২), পিতা-মোঃ সাইদুল ইসলাম, সাং-সিংদহ দক্ষিণপাড়া , থানা- নীলফামারী সদর, জেলা-নীলফামারী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply