স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এক পরীক্ষার্থীকে গোপনে তিনটি বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা মাত্র দুই ঘণ্টায় সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্যান্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে গত ৭ জুন সদর উপজেলার অমরখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরীক্ষার্থী তনুশ্রী দত্ত (রোল নম্বর: ২৬৫০২২) এককভাবে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেন। তবে এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এককভাবে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কেন্দ্র সচিব ও জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, পরীক্ষার্থীর বাবা এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুরোধে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়নি; পরীক্ষার্থীর বাবা কেবল চা-নাস্তার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে এককভাবে পরীক্ষা গ্রহণের কোনো লিখিত আবেদন তিনি দেখাতে পারেননি।
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, জগদল দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ৮ ও ৯ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের একদিন আগে, ৭ জুন, দায়িত্বরত শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমানের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির একটি কক্ষে তনুশ্রী দত্তের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক খাতা মূল্যায়ন এবং ৭৫ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া নির্ধারিত ৯ জুনের উপস্থিতি তালিকায় তনুশ্রীর পক্ষে ল্যাব সহকারী মিজানুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। এককভাবে কোনো পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীর লিখিত আবেদন থাকতে হয়। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
Leave a Reply