স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, সীমান্তে ভারতের কথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার আয়োজনে জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দোয়া ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “সীমান্ত এলাকায় যে পুশইনের কার্যক্রম আমরা লক্ষ্য করছি, তা সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবতার বিরুদ্ধে। যেভাবে নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষকে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
তিনি বলেন, সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বলপ্রয়োগ বা একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বিজিবি অত্যন্ত ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে তারা যেভাবে দায়িত্ব পালন করছে, তার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমি বিজিবিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত ও অমানবিক এ ধরনের কার্যক্রম থেকে সরে এসে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এ ধরনের সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব।”
এ সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া অনুষ্ঠানে দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করা হয়।
Leave a Reply