মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জিহাদ,নন্দীগ্রাম বগুড়া প্রতিনিধিঃ মোছাঃ মেহেরুন নেছা, পিতা এবি এম শাফিকুর রহমান, গ্রাম-বারোপুর উত্তর পাড়া-বগুড়া।
প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন গত সোমবার দিবাগত রাতে বগুড়া সদরের নিশিন্দারা ইউনিয়নে চোর সন্দেহে শামিম নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও পায়ের র*গ কেটে হ*ত্যা করার ঘটনা ঘটেছে এবং আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে আপনাদেরকে জানাচ্ছি যে উক্ত ঘটনায় আমার বাবা এবি এম শাফিকুর রহমান ও আমার আপন দুই ভাইসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি, সেই সাথে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জোড় দাবি জানাচ্ছি।
প্রিয় ভাইয়েরা, আমার বাবা নিশিন্দারা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের টানা দুইবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একটি কুচক্রী মহল আমার বাবার মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে তাকে ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে এ মামলায় জড়িয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসন সহ বগুড়াবাসীকে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমার বাবা ও দুই ভাই এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই। জড়িত নয়। কেননা আমার বাবা গত ২৯/৮/২৬ ইং তারিখে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কণ্ঠা ভেঙে গুরুতর আহত হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে আছেন। তার যথোপযুক্ত প্রমান, ডাক্তারির প্রেসক্রিপশনসহ চিকিৎসার সকল কাগজপত্র রয়েছে।
প্রিয় ভাইয়েরা, ওইদিন রাতে নুনগোলা ঈদগাহ মাঠের কাছে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে এলাকাবাসী শামিম নামে এক চোরকে আটক করেন। পরে আনু ও মিলনসহ স্থানীয় কয়েকজন আমার বাবাকে আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে ফোন করে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেন এবং বলেন মেম্বার সাহেব আমরা একজন চোর ধরেছি আপনি গ্রাম্য পুলিশ পাঠিয়ে দেন। তখন আমার বাবা গ্রাম্য পুলিশ গোবিন্দ কে ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। কিন্তু গোবিন্দ বলেন আমি ইউনিয়ন পরিষদে একাই আছি, আমার যাওয়া সম্ভব নয়। তখন বিষয়টি আনু ও মিলনকে বললে তখন তারা বলেন আপনি আপনার ছেলেকে পাঠিয়ে দেন তারা ও আমরা মিলে গ্রামের লোকজন সহ পরিষদে রেখে আসি। তখন তাদের কথামত আমার বাবা ঘুমিয়ে থাকা আমার দুই ভাইকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে ঘটনাস্থলে গিয়ে শামীমকে উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে রেখে আসতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে আমার দুই ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে শামিম কে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দিয়ে বাসায় চলে আসে। কিন্তু ভোরবেলা আমরা বিভিন্ন ভাবে খবর পাই যে চোর সন্দেহে এক যুবককে রাতভর মারপিট ও পায়ের র*গ কেটে হ*ত্যা করেছে আমার বাবা ও ভাই।
এই খবর শোনার পর আমরা বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যাই। এবং তখনই আমরা বুঝতে পারি আমার বাবা ও ভাইকে ফাঁসানোর জন্য এটা একটা গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। পরিশেষে আমি বলতে চাই এই ঘটনার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে আমি মনে করছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, আমি আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং আমার বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
Leave a Reply