1. admin@alokito-bd.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
১৯ বছর পর বই হাতে, পরিবার সামলে এইচএসসিতে সফল আফরোজা কাউনিয়ায় ১৩০ পিচ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বগুড়ায় কোবরা বাহিনীর সদস্য রতন পাইকারসহ ৭ জন গ্রেপ্তার, ৫৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবশক্তিকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে তরুণদের বিভিন্ন অপরাধে জড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল—ত্রাণমন্ত্রী ‎ পঞ্চগড়ে চানপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল শুরু কাউনিয়ায় জাতীয় যুব দিবস পালন গাইবান্ধায় উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো জাতীয় যুব দিবস মিঠাপুকুরে দুই বোনকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ আজ যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

১৯ বছর পর বই হাতে, পরিবার সামলে এইচএসসিতে সফল আফরোজা

  • প্রকাশিত : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ বার পাঠ করা হয়েছে

ইচ্ছাশক্তি আর দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। এই কথাটিই যেন সত্য প্রমাণ করলেন দুই সন্তানের জননী ও গৃহিণী আফরোজা আক্তার মেরী।

দীর্ঘ ১৯ বছরের পারিবারিক জীবন ও নানা সামাজিক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে তিনি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.১৯ অর্জন করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে জানা গেছে, আফরোজা আক্তার মেরী রায়পুরার দৌলতকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মানবসম্পদ উন্নয়ন শাখা থেকে এই ফল অর্জন করেন। তার এই সাফল্যে আনন্দিত পরিবারের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

আফরোজা নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কুমারটেক গ্রামের ইমরুল হাসানের স্ত্রী। ইমরুল হাসান বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

কটূক্তি ও সামাজিক খোঁচা
২০০৭ সালে যখন তার বিয়ে হয়, তখন তিনি দৌলতকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং এসএসসি পরীক্ষার্থী। হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে তার মনে ছিল শিক্ষার অদম্য স্পৃহা। বিয়ের পর বড় ছেলের জন্মের তিন বছর পর (২০১২ সালে) তিনি ফের পড়াশোনা শুরুর চেষ্টা করেন। স্থানীয় একটি হাইস্কুলে নবম শ্রেণিতে ভর্তিও হন। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা, পাড়া-প্রতিবেশী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকের কটূক্তি এবং বয়স নিয়ে সামাজিক খোঁচায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে তিনি পুরোপুরি গৃহিণী হিসেবে সংসার ও দুই সন্তানের লালন-পালনে মনোনিবেশ করেন।

নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো
২০২৩ সালে স্বামী ও পরিবারের কাছে আবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জানান আফরোজা। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত ছাত্রী হিসেবেই পড়াশোনা কথা বলেন। পরে স্বামীর উৎসাহে তার আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দৌলতকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ফের নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

শুরু হয় তার এক নতুন লড়াই। গৃহিণীর দায়িত্ব, সংসার ও দুই ছেলের দেখাশোনা শেষে তার পড়ার সময় শুরু হতো গভীর রাতে। আর তার এই অদম্য যাত্রায় ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্বামী ইমরুল হাসান। যিনি নিজেই হয়ে ওঠেন তার ‘প্রাইভেট টিচার’। তবে নিয়মিত ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অর্জন করেন জিপিএ-৪.৫৫।

উচ্চমাধ্যমিকের পথটাও সহজ ছিল না। বড় ছেলের এসএসসি পরীক্ষা, ছোট ছেলের স্কুলের নানান ব্যস্ততা এবং নিজের শারীরিক অসুস্থতা সবকিছু মিলিয়ে বড়বড় বাধা বারবার সামনে এসেছে। কিন্তু সেগুলো তার অদম্য জেদকে দমাতে পারেনি। সব প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
কারিগরি সহযোগিতায়: জাগো হোষ্টার বিডি