সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষাসেবার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম/রংপুর অঞ্চলের অন্তর্গত বাগডহরা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোকলেছুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। ভুয়া ভাউচার ও ভূয়া বিল বানিয়ে প্রায় ৩,৬৪,০০০ (তিন লক্ষ চৌষট্টি) টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোকলেছুর রহমান কোনো প্রকার দৃশ্যমান কাজ না করেই ভুয়া রসিদ ও কাগজপত্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা উত্তোলন করেন।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, বিল-ভাউচারে উপস্থাপিত খরচের সাথে বিদ্যালয়ের বাস্তব অবকাঠামো বা উন্নয়নমূলক কাজের কোনো মিল নেই। অভিযোগ রয়েছে, সহকারী শিক্ষা অফিসার সঠিক তদারকি ও পরিদর্শন না করেই উক্ত ভুয়া বিল উত্তোলনে তাকে পূর্ণ সহায়তা প্রদান করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ধরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মোকলেছুর রহমানের কাছে উন্নয়ন খাতের উক্ত খরচের হিসাব চান। কিন্তু তিনি কোনো সঠিক হিসাব বা কৈফিয়ত দিতে ব্যর্থ হন। এর পরপরই ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা অফিসারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, শিক্ষককে ২০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র ২ জন শিক্ষক বিশিষ্ট এই বিদ্যালয়ে ১ জন শিক্ষককে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠালে অবশিষ্ট ১ জন শিক্ষিকার পক্ষে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করতে সহকারী শিক্ষা অফিসার দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করার পাঁয়তারা করছেন।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ অবিলম্বে এই অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তাকে সহায়তাকারী সহকারী শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply