স্নিগ্ধা খন্দকার, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ে গ্রামীণ সড়কে পাথর বালি পরিবহন করার যানবাহন থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে নামমাত্র জমা করে বাকী অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল এর বিরুদ্ধে। তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থাসহ রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের আওতায় কয়েকটি সড়কে নিয়মিত পাথর বালি নিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হচ্ছে। তিনটি সড়কে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টি ট্রাক থেকে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও পরিষদে তিনটি সড়কের এক বছরের ইজারা দেখানো হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।চেয়ারম্যান গোপনে একেকটি সড়ক ইজারা দিয়েছেন ২ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।
জানা যায়,প্রতি বছর বাংলা সালের বৈশাখ মাস থেকে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম গোপনে দীর্ঘদিন ধরে মিরগড়, লাঠুয়া পাড়া ও আহমেদ নগর এলাকায় সড়ক ইজারা দিয়ে আসছে। প্রতিবছর কিছু অর্থ পরিষদের হিসাব নম্বরে জমা করলেও ৭ থেকে ৮ লাখ লাখ টাকা প্রতি বছর আত্মসাৎ করেছে চেয়ারম্যান দুলাল।
পরিষদের ইউপি সদস্য মোজাহারুল হক জানান, ইজারার সময় আমি ছিলাম না। চেয়ারম্যান আলাদাভাবে করে নেয়, আর শুনানো হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ ইজারা বিষয়ে কিছু জানেননা এবং চেয়ারম্যান কিছু জানায় নাই বলেন তিনি।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দাইমুল ইসলাম বলেন, কোন সড়ক কত টাকায় চেয়ারম্যান ইজারা দিয়েছেন তা জানিনা। তবে সেটার জন্য ৪০ হাজার টাকা দিয়েছেন রাজস্ব হিসাব নম্বরে জমা করতে, আমি জমা করেছি।
লাঠুয়া পাড়া এলাকায় সড়কের টোল আদায়ের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন,আমরা এটাতে অনেকজন শেয়ার রয়েছি।ঠিক কত টাকায় ইজারা নিয়েছি তা জানিনা। তবে টোল আদায়কারী আকতারুল বলেন খরচসহ সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়ার কথা।
ধাক্কামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, সড়কের কর আদায়ের ইজারা ঠিক কত টাকায় দিয়েছি খেয়াল নাই। তবে সবার সম্মুখে পরিষদে খোলা ডাক দেওয়া হয়েছে। ইজারা বাবদ ৪০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা আমরা জমা দেই তবে কিছু বেশি নেওয়া হয়।আমাদের তো বেতন ভাতা নাই। আরো অনেক খরচ রয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
Leave a Reply